দেড় লাখ টাকা হলেই সুস্থ হবে আমির হামজা

শনিবার, ০৩ মার্চ ২০১৮ | ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ | 232 বার

দেড় লাখ টাকা হলেই সুস্থ হবে আমির হামজা

তের মাস বয়সী শিশুটির চোখের নিচের কালো বলি রেখা বলে দেয় কতটা যন্ত্রণা ভোগ করছে। মুখে হাসি নেই। পাবনার চাটমোহরের মথুরাপুর বুদপাড়া গ্রামের দিনমজুর রফিকুল ইসলাম ও গৃহিনী সমেলা খাতুনের একমাত্র ছেলে আমির হামজা। হৃদপিন্ডের ছিদ্র নিয়ে জন্ম নেয়া তের মাস বয়সী শিশুটিকে বাঁচাতে দরিদ্র বাবা-মা নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। একদিকে নিষ্পাপ শিশুর করুণ দৃষ্টি, অপরদিকে চিকিৎসার ব্যায়ভার বহনে অক্ষম হওয়ায় নিদারুণ কষ্টের দিন পার করছে পরিবারটি। একমাত্র ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সহায় সম্বল বিক্রি করে হয়েছেন নিঃস্ব। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ও নানা সহায়তা মিলে ৮৫ হাজার টাকা জমাতে পেরেছেন। দেড় থেকে পৌনে দুই লাখ টাকা যোগাড় হলেই শিশুটির অপারেশন করানো যেত। সুস্থ হতো আমির হামজা। কিন্তু এতো টাকা পরিবারটির কাছে দুঃস্বপ্নের মতো।

মা সমেলা খাতুন জানান, আমির হামজার বয়স যখন এক মাস তখন তার মাঝে মধ্যেই শ্বাস কষ্ট হতো। খুব কান্নাকাটি করতো। স্থানীয় চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। রোগ না সারায় আমির হামজাকে বছর খানেক আগে ঢাকার শের-ই বাংলা নগরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার হৃদপিন্ডে ছিদ্র পান। বাঁচাতে হলে দ্রুত অপারেশন করানো প্রয়োজন। এেেত্র তাদের খরচ পড়বে প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। কিন্তু টাকার অভাবে দরিদ্র বাবা-মা ফিরে আসেন বাড়িতে। সম্বল বলতে বাড়ি ছাড়া আর কিছু নেই। সেটি বিক্রি করে দিলে রাস্তায় নেমে পড়তে হবে। হাল ছেড়ে দিয়েছেন বাবা রফিকুল। তবে, হাল ছাড়েননি মা সমেলা খাতুন। সন্তানকে বাঁচাতে তিনি দ্বারে দ্বারে ছুটছেন।

সমেলা খাতুন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘স্বামী যা আয় করেন সেই টাকা দিয়ে সংসার চলে না। ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে চোখে পানি এসে যায় অথচ তার চিকিৎসার খরচ আমাদের কাছে নেই। কোন মা’র পে কি বেঁচে থাকতে সন্তানের লাশ দেখা সম্ভব! ছেলে ছাড়া আমি বাঁচবো না!’

রফিকুল ইসলাম তাদের অমতার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমিরের চিকিৎসার জন্য নিজের সব কিছু ফুরিয়েছি। আমি আমার ছেলেকে বাঁচাতে চাই। আমার সহায় সম্বল বলতে আর কিছু নেই। আমি এখন কি করব।’

আমির হামজার সুস্থ হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. স. ম. বায়েজিদুল ইসলাম বলেন, শিশুটিকে বাঁচাতে হলে দ্রুত অপারেশন করাতে হবে। এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে।’

শিশু আমির হামজার পরিবারকে সহযোগিতা করতে চাইলে এই নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে। সমেলা খাতুন-০১৭৯৬-৩৮৩৫২৫ (বিকাশ নম্বর)

Share this...
Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn

মন্তব্য

comments

সরকারী কর্মচারী আয়কর অব্যাহতি এর গেজেট

২০১৭ | এই ওয়েবসাইটের কোনো সংবাদ বা ছবি অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না

Development by: Rumi